Mahalaya 2026: মহালয়ায় তর্পণের শুভ সময় কখন? কোন সময়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে জল নিবেদন করবেন? জেনে নিন অমাবস্যা তিথির সময়সূচি


কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহালয়া। এই দিনেই পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। প্রথা মেনে মহালয়ার সকালে গঙ্গার ঘাটে ঘাটে ভিড় জমান বহু মানুষ। প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের উদ্দেশে জলদান বা তর্পণ করেন তাঁরা। হিন্দুধর্মের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে তর্পণ করলে পূর্বপুরুষদের আত্মার তৃপ্তি হয়।

‘তর্পণ’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘তৃপ্’ ধাতু থেকে। এই শব্দের অর্থ হল তৃপ্তি সাধন করা। জল ও তিল নিবেদনের  মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের তৃপ্ত করা বোঝায়। হিন্দুধর্মে মৃত পূর্বপুরুষকে শ্রদ্ধা জানাতে তর্পণ করা হয়। আবার ঋষি ও দেবতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাদের আত্মার তৃপ্তি ও শান্তির জন্য তর্পণ করা হয়। তর্পণের সময় দেব-ঋষি এবং পূর্বপুরুষদের নাম উচ্চারণ করা হয়। তারপর জল নিবেদন করা হয়। এতে আত্মার তৃষ্ণা নিবারণ হয়। তাঁরা শান্তি লাভ করেন।

কবে মহালয়া?

২০২৬ সালে মহালয়া পালিত হবে ১০ অক্টোবর, শনিবার। এই দিনটি পিতৃপক্ষের শেষ দিন এবং সর্বপিতৃ অমাবস্যা হিসেবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যাঁরা পূর্বপুরুষদের নির্দিষ্ট মৃত্যুতিথিতে তর্পণ করতে পারেন না, তাঁরা পিতৃপক্ষের শেষ দিন অমাবস্যায় তর্পণ করতে পারেন বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।

কখন শুরু ও শেষ হবে অমাবস্যা তিথি?

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর, শুক্রবার রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হবে। তা চলবে ১০ অক্টোবর, শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।

অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে, ৯ অক্টোবর রাত ৮টা ৫৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে অমাবস্যা তিথির সূচনা হবে। ১০ অক্টোবর রাত ৮টা ৩২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে শেষ হবে তিথি।

মহালয়ায় তর্পণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল, তিল ও অন্যান্য উপাচারের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। গঙ্গার ঘাটে তর্পণ করার পাশাপাশি অনেকে বাড়িতেও এই আচার পালন করেন। পিতৃপুরুষদের পাশাপাশি দেবতা, গুরু ও ঋষিদের উদ্দেশেও তর্পণ করার বিধান রয়েছে।

মহালয়ার তর্পণ শুধু ধর্মীয় আচার নয়, পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও একটি প্রাচীন প্রথা। তবে তর্পণের নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম জানতে নিজ নিজ পঞ্জিকা এবং পুরোহিতের পরামর্শ মেনে চলাই শ্রেয়। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *