ভুল চিকিৎসার জেরে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ উঠল কলকাতা মেডিক্যাল
কলেজে। রবিবার সকালে আন্দুলের বাসিন্দা ১১ বছরের পবন যাদবকে নিয়ে আসা হয় কলকাতা
মেডিক্যালে। পেটে ব্যথা নিয়ে সকাল ১০টা নাগাদ তাকে ভর্তি করানো হয় মেডিক্যালের
মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে। কিন্তু পরিবারের দাবি, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দেড়
ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হয় তার। ভুল চিকিৎসার জেরে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে
অভিযোগ তাদের।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলকাতা
মেডিক্যাল চত্বর। মারমুখী হয়ে ওঠেন মৃত নাবালকের পরিজনেরা। উত্তেজনার মাঝে পুলিশ এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের উপরে চড়াও হন বিক্ষুব্ধ পরিজনদের বেশ কয়েকজন। শুরু হয় ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি। হেলমেট দিয়ে পুলিশকর্মীদের উপর আক্রমণের চেষ্টা করেন তাঁরা। পাল্টা ধাওয়া করে পুলিশও। পুলিশকর্মীরাও হেলমেট উঁচিয়ে তেড়ে যান। শেষে বিক্ষুব্ধদের বেশ কয়েক জনকে আটক করে প্রিজ়ন ভ্যানে তোলে পুলিশ।


রবিবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা।
ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
চতুর্থ শ্রেণির ওই পড়ুয়ার মামার বাড়ি কলেজ স্ট্রিটে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, সেখানে বেড়াতে এসেই পেটে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করে সে। এ অবস্থায় রবিবার তাকে কলকাতা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময়ে হেঁটেই ভিতরে প্রবেশ করে রোগী। কিন্তু সাড়ে ১১টা নাগাদ তাদের বলে দেওয়া হয়, ছেলে মারা গিয়েছে। সামান্য পেটে ব্যথা থেকে কী ভাবে মৃত্যু হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন পরিবারের।
পরিবারের দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণেই মারা গিয়েছে ওই বালক। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে কোনও
সিনিয়র চিকিৎসক ছিলেন না। জুনিয়র ডাক্তারেরাই চিকিৎসা করেছেন। এবং জুনিয়র ডাক্তারেরাও মিথ্যা কথা বলছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। মৃতের বিক্ষুব্ধ পরিজনের একজন বলেন, “আমাদের চোখের সামনে
তিনটে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওরা জানাচ্ছে, দু’টো ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে।”


কলকাতা মেডিক্যালে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবের সামনে রোগীর পরিজনেরা।
— নিজস্ব চিত্র।
ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়ার অভিযোগটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও নজরে এসেছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস জানিয়েছেন, পেটে ব্যথার উপসর্গ নিয়ে শিশু বিভাগে ওই রোগীকে আনা হয়েছিল। ব্যথা কমানোর ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। আচমকা শিশুর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে সিপিআর দেওয়া হয়। কিন্তু চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি।তিনি বলেন, “মৃতের পরিজন আমাদের কাছে একটি অভিযোগ করেছেন যে, ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখব।”
পরিবারের দাবি, জুনিয়র ডাক্তারেরাই পবনের চিকিৎসা করেছেন। কেন কোনও সিনিয়র চিকিৎসক ছিলেন না সে সময়ে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বস্তুত, রবিবার বা ছুটির দিনে সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকা নিয়ে ইতিমধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনে। গত শুক্রবারই স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ছুটির দিনেও পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক থাকতে হবে হাসপাতালে। কিন্তু তার পরেও রবিবার সেই একই অভিযোগ উঠে এল কলকাতা মেডিক্যালে।
পরিবারের দাবি, কী কারণে পবনের মৃত্যু হয়েছে, তা স্বাস্থ্য দফতরকে যথাযথ তদন্ত করে দেখতে হবে। সিনিয়র চিকিৎসক কেন ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তারও জবাব দিতে হবে।
ঘটনার সময় আন্দুলের বাড়িতেই ছিলেন মৃত শিশুর বাবা নরেশ
যাদব। সকালে ছেলের পেট ব্যথার খবর পেয়ে তিনিই স্ত্রীকে বলেছিলেন কলকাতা মেডিক্যালে
নিয়ে যাওয়ার জন্য। নরেশেরও অভিযোগ, ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে ছেলের।
তিনি বলেন, “কোনও সিনিয়র ডাক্তার ছিল না। সব জুনিয়র ডাক্তার ছিল। আমার বাচ্চাকে
খুন করেছে।”
সন্তানের দেহে কোনও কাঁটাছেড়া করতে দিতে চাইছেন না পবনের মা-ও। চাইছেন না পবনের দেহের ময়নাতদন্ত হোক। কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, “আমার বাচ্চাকে চিড়ফাঁড় করবেন না।”













Leave a Reply