কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা নিযুক্ত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। রাজ্যের তথ্যসংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা নিযুক্ত হলেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পরই মিঠুনের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবিষ্য়তে মিঠুনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন আগে। সেই মতোই বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে মিঠুনকে তথ্যসংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা নিয়োগের কথা জানানো হল। (Mithun Chakraborty)
এদিন রাজ্য সরকারের তরফে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, তাতে বলা হয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি বিভাগের উপদেষ্টা নিয়োগ করা হল মিঠুন চক্রবর্তীকে, যা মন্ত্রীর পদমর্যাদার সময়’। এই মুহূর্ত থেকেই মিঠুনের কার্যকাল শুরু হল বলে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সই রয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের। তবে মিঠুন যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন, তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। (West Bengal Government)
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন মিঠুন। জায়গায় জায়গায় সভা, প্রচার করেছিলেন তিনি। শুধু তাঁকে দেখতেই বিজেপি-র সভায় ভিড় দেখা গিয়েছিল প্রচুর মানুষের। নির্বাচনে জয়ের পর মিঠুনের অবদান মেনে নেন খোদ শুভেন্দু। মিঠুনকে পাশে নিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ইনি (মিঠুন) অত্যন্ত নিঃস্বার্থ ভাবে পশ্চিমবঙ্গের গত ১৫ বছরের বিপর্যয় থেকে বাংলাকে বাঁচাতে, পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে, এখানকার রাষ্ট্রবাদীদের বাঁচাতে, বিশেষ করে মা-বোনেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য নিরলস চেষ্টা করেছেন। ঐকান্তিক প্রয়াস ছিল। সীমা ছিল না তাঁর পরিশ্রমের। এই নির্বাচনেও যদি সর্বোচ্চ সভা, রোড শো, এমনকী নির্বাচনের আগে ৮-১০ মাস ধরে ইনডোর মিটিং করেছেন। কোনও সাংবিধানিক পদ দিলেও নেন না মিঠুনদা। জাতীয় সদস্য তিনি। মাইক্রো লেভেলেও কাজ করেছেন প্রায় এক বছর ধরে। শেষ তিন-চার মাস সভার কোনও সংখ্যা নেই। আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি নিশ্চিত ভাবে জনগণের ভোটে, আশীর্বাদে। বিজেপি মনোনীত করেছে। কিন্তু নেপথ্যের কারিগর হিসেবে যে কয়েকটা নাম আসে, তার মধ্যে মিঠুন চক্রবর্তী অন্যতম।”
আরও পড়ুন: ১৬ লক্ষ ভুতুড়ে ভোটার, ভোটের আগে হঠাৎ উদয়? উত্তরপ্রদেশের SIR ঘিরেও বিতর্ক, কমিশন বলল…
সেই সময় শুভেন্দুকেও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন মিঠুন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “আমি একটাই কথা বলব সবাইকে, এর থেকে ভাল মুখ্য়মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। যে মুহূর্তে শপথ নিয়েছেন, তার পর থেকেই কাজ করছেন। আপনারা দেখুন। গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, এর থেকে ভাল মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। আমরা আশীর্বাদধন্য যে শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। আগামীতেও কী হবে দেখুন। চ্যালেঞ্জ করছি। আগামীতে এই যোদ্ধা একের পর এক লড়াই লড়বেন। আর আমি তো পিছনে রইলামই।”
সেই সময় থেকেই মিঠুনের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি সেই মতো ঘোষণাও করে দেন শুভেন্দু। গত ৪ সেপ্টেম্বর শুভেন্দুকে বলতে শোনা যায়, “মহাগুরু তো আছেনই। আপানরা শুনলে খুশি হবেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সরকারি ভাবে কিছু দিনের মধ্যে মাননীয় মিঠুন চক্রবর্তীকে তথ্যসংস্কৃতি উপদেষ্টা নিযোগ করতে চলেছি।” শেষ পর্যন্ত বুধবার সেই মতো বিজ্ঞপ্তি জারি হল।
ছয় ও সাতের দশকে নকশাল আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন মিঠুন। তবে হাতেকলমে রাজনীতিতে পদার্পণ ঘটে তৃণমূলের হাত ধরে। তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন মিঠুন। ২০২১ সালের ৭ মার্চ যোগ দেন বিজেপি-তে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিজেপি-র হয়ে প্রচারে যোগ দেন তিনি।
Santosh Mitra Square: ভিড় সামলাতে কী ব্যবস্থা, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো ঘুরে দেখে কী বললেন CP?














Leave a Reply