Free AI Tools Hub

Free AI Tools, PDF Tools & Directory

Weather Alert: ২০২৬-এর শেষে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী হতে পারে এল নিনো, কী প্রভাব পড়বে ভারতে?


কলকাতা: প্রশান্ত মহাসাগরের জল ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে। বদলাচ্ছে বাতাসের গতিপথও। আর এই দুই পরিবর্তনই এখন আবহাওয়াবিদদের নজরে। কারণ, শক্তি বাড়াচ্ছে El Niño। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা NOAA-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এই জলবায়ু পরিস্থিতি খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি।

শুধু শক্তিশালী El Niño-ই নয়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এটি ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে। NOAA-এর হিসাবে, ১৯৫০ সালের পর নথিভুক্ত শক্তিশালী El Niño-গুলির মাত্রা ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৯ শতাংশ।

El Niño আসলে কী?

El Niño কোনও ঘূর্ণিঝড় বা ঝড়ের নাম নয়। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রের জল যখন স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠে, তখন তৈরি হয় El Niño পরিস্থিতি।

এই সমুদ্রের উষ্ণতা শুধু প্রশান্ত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ এবং ঝড়ের প্রবণতাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কেন এবার এতটা নজর?

NOAA-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শুধু সমুদ্রের উপরিভাগ নয়, গভীরেও উষ্ণ জল জমা হচ্ছে।

অর্থাৎ, সমুদ্রের নিচে জমে থাকা অতিরিক্ত তাপ আগামী মাসগুলিতে El Niño-কে আরও শক্তিশালী করার ‘জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

এরই মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে El Niño-র কিছু লক্ষণ স্পষ্ট। মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে বৃষ্টিপাত বেড়েছে, অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার মতো কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় শুষ্ক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। একইসঙ্গে ক্রান্তীয় অঞ্চলের বায়ুপ্রবাহেও পরিবর্তন হয়েছে।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

El Niño নিয়ে ভারতের বিশেষ উদ্বেগের কারণ হল বর্ষা। প্রশান্ত মহাসাগরের এই জলবায়ু পরিবর্তন ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত।

শক্তিশালী El Niño হলে ভারতের বৃষ্টিপাতের ধরন বদলানোর ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষি, জলসম্পদ এবং তাপমাত্রার উপরও।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। শক্তিশালী El Niño মানেই ভারতে নিশ্চিতভাবে খরা হবে বা সব জায়গায় বৃষ্টি কমবে—এমন নয়। আবহাওয়া অত্যন্ত জটিল একটি ব্যবস্থা। একই El Niño-র প্রভাব বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা হতে পারে।

অর্থাৎ, El Niño শক্তিশালী হচ্ছে বলেই এখনই ভারতের কোনও নির্দিষ্ট রাজ্য বা শহরের আবহাওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী করা ঠিক হবে না।

২০২৬-এর শেষে কী হতে পারে?

বর্তমান মডেলগুলি বলছে, ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত El Niño আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। NOAA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬-এর সময়ে এটি ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছতে পারে।

যদি সেই পূর্বাভাস বাস্তবে মিলে যায়, তাহলে ১৯৫০ সালের পরের অন্যতম শক্তিশালী El Niño হিসেবে এটি জায়গা করে নিতে পারে।

আর তার প্রভাব শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও খরার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

সামনে কী নজরে রাখতে হবে?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন।

আবহাওয়াবিদরা পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছেন। আগামী সেপ্টেম্বরের আপডেটগুলিতে El Niño শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হবে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যেতে পারে।

তাই এখনই আতঙ্কের কারণ না থাকলেও, সতর্ক নজর রাখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। 

প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তাহলে ২০২৬-এর শেষভাগে El Niño শুধু আবহাওয়ার খবর থাকবে না—বিশ্বের জলবায়ুর জন্যই হয়ে উঠতে পারে বড় একটি পরীক্ষা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *