কলকাতা : ফের রাজ্যের আকাশে ঘনাচ্ছে দুর্যোগের মেঘ। মঙ্গলবার সকাল থেকে তুমুল বৃষ্টি। দমকা হাওয়ার দাপটও শহর জুড়ে। পুজোর আগে কি বড়সড় ঘূর্ণিঝড়ের মুখে পড়বে রাজ্য? আপডেট দিলেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।
উত্তর আন্দামান সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের শক্তি আরও বেড়েছে। আপাতত সেটির অবস্থান কলকাতার দক্ষিণপশ্চিমে ৬৫০ কিমি দূরে। বিশাখাপত্তনম থেকে ৩০০ কিমি দূরে অবস্থান করছে নিম্নচাপটি। বঙ্গোপসাগরের ওপরই আরও ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই
তা পরিণত হতে পারে গভীর নিম্নচাপে। আপাতত সিস্টেমটির অভিমুখ উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ। সমুদ্র থেকে আরও শক্তি সঞ্চয় করে এই সিস্টেমটিই ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। যদি ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হয়, তবে তার ল্যান্ডফল হতে পারে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার গোপালপুরের মাঝে। তাহলে কি এবার পুজোর আগে ঘূর্ণিঝড়ের মুখে পড়তে হবে না এই রাজ্যকে ? কী বলছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ?
এর জেরে মঙ্গলবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে বৃষ্টি। এদিন থেকেই বাড়বে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। এর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের মতো উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে কাল থেকে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কিছু অংশে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়ার কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ৪৫ – ৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে বইবে হাওয়া। সেই সঙ্গে বুধবারের পর থেকে সারা উত্তরবঙ্গ জুড়ে দুর্যোগ প্রবল হবে। পাহা়ড়ি এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই উত্তরবঙ্গের মানুষ ও পর্যটকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। পাহাড়ি রাস্তায় ধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বুধবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়গ্রাম জেলাতে। শনিবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হবে। তবে বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, নিম্নচাপের জেরে পশ্চিমবঙ্গে দফায় দফায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সমুদ্রও উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মৎস্যজীবী ও সমুদ্রনির্ভর কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।
Weather Report : বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, আজ দিনভর কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি















Leave a Reply